Image description

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে অংশ নিতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন পটুয়াখালীর বাউফলের বাসিন্দা ও বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী মো. নিরব হোসেন (৫৬)। তিনি জুলাই বিপ্লবে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী তাহসিন হোসেন নাহিয়ানের বাবা।

বুধবার (১ জানুয়ারি) দুুপুর ২টায় বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

নিহত নিরব হোসেন বড় ডালিমা গ্রামের মরহুম মতিউর রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ঢাকার মগবাজার এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন এবং সাবেক গণমাধ্যমকর্মী ছিলেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে শরিক হতে এক বন্ধুর সাথে যান নিরব হোসেন। সেখানে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিরব হোসেনের বড় ছেলে তাহসিন হোসেন নাহিয়ান (১৫) মোহাম্মদপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। জুলাই আন্দোলনে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা বিএনপি নেতারা জানান, নিরব হোসেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারেক রহমানের বিশেষ সহযোগিতায় মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানো হয় এবং তিনি এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ড. সফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি সেনহাংশু সরকার কুট্টি, বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

উল্লেখ্য, নিরব হোসেন ১৯৯৮ সাল থেকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় দৈনিক জনকণ্ঠে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর