Image description

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু হলুদের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে আছে ফসলের মাঠ। সোনালি রোদে ঝলমল করছে হলদে ফুলগুলো। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কাজীপুরে প্রায় ৩ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এবার সরিষা চাষে বেশি ঝুঁকেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ি, চালিতাডাঙ্গা, সোনামুখী, নাটুয়ারপাড়া, শুভগাছা, চরগিরিশ, গান্ধাইল, মাইজবাড়ী ও মুনসুরনগর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে। এই দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য পথচারীদের যেমন মুগ্ধ করছে, তেমনি কৃষকের চোখেমুখেও ছড়াচ্ছে আশার আলো।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুই-ই কম। সময়ও লাগে অল্প। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ঘন কুয়াশা না থাকায় এবার সরিষা গাছের বৃদ্ধি চমৎকার হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো পোকার আক্রমণও দেখা যায়নি। বাজারে যদি সরিষার নায্যমূল্য পাওয়া যায়, তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।

কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, “সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি ও অত্যন্ত লাভজনক ফসল। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে উৎসাহিত করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার সরিষার দানা ভালো হবে। এটি দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”

কৃষকদের আশা, সরকারিভাবে নিয়মিত বীজ ও সার সহায়তা এবং সরিষার ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে যমুনার চরাঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় সরিষার আবাদ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর