তিন দশক আগের অটোগ্রাফ: খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে আবেগঘন স্ট্যাটাস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্মৃতি নিয়ে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের স্কুল শিক্ষিকা জিনাত আরা তানি। তিন দশক আগে গৌরীপুর স্টেডিয়ামে এক জনসভায় খালেদা জিয়ার কাছ থেকে নেওয়া সেই দুর্লভ অটোগ্রাফ এবং স্মৃতিময় একটি ছবি শেয়ার করে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের ২৩ মে’র। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গৌরীপুর স্টেডিয়ামে স্থানীয় বিএনপির এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি দলীয় প্রার্থী এএফএম নজমূল হুদার পক্ষে ভোট চাইতে সেখানে গিয়েছিলেন।
তৎকালীন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গণি মণ্ডল জনতার ভিড় ঠেলে তাঁর দুই সন্তান ইয়াসিন মণ্ডল জনি ও জিনাত আরা তানিকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দিলে খালেদা জিয়া অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল মুখে দুই ভাই-বোনের বাড়িয়ে দেওয়া ডায়েরিতে অটোগ্রাফ দেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। সেই মুহূর্তটিই আজ তিন দশক পর এক অমূল্য স্মৃতির দলিল হয়ে সামনে এসেছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর স্মৃতিময় সেই অটোগ্রাফের পাতা ও ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে জিনাত আরা তানি লেখেন
“খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আপনি কী শিখবেন? আপনি শিখবেন কীভাবে একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে গণমানুষের নেতায় পরিণত হওয়া যায়। তাঁর সংগ্রামী জীবন থেকে শেখা যায় আপসহীনতার শিক্ষা। তিনি দেশের মাটিতেই সম্মানের সাথে মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন এবং তিনি সেই পরম সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।”
জিনাত আরা তানি বর্তমানে গৌরীপুর শেখ লেবু স্মৃতি পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাঁর বড় ভাই ইয়াসিন মণ্ডল জনি রাজধানী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গণি মণ্ডল ২০০৫ সালে ইন্তেকাল করেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জিনাত আরা তানি বলেন, “সেদিন ছোট ছিলাম, বুঝিনি এই মহীয়সী নারীর অটোগ্রাফ ও সান্নিধ্য আমার জীবনকে কতটা অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর অদম্য সাহস আর সংগ্রামী চেতনা চিরকাল আমার কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
বড় ভাই ইয়াসিন মণ্ডল জনি বলেন, “আমি তখন তৃতীয় শ্রেণিতে আর বোন তানি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তাম। বাবার রাজনীতির সুবাদে দেশনেত্রীর খুব কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। আজ তিনি নেই, আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ওই নির্বাচনে গৌরীপুর সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এএফএম নজমূল হুদা ৩৭ হাজার ১১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মুজিবুর রহমান ফকির।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments