বগুড়ায় ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু
বগুড়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে নতুন করে পরিচিত করার লক্ষ্যে আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বগুড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন-২০২৬। সকালে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) অডিটোরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক ড. এ. কে. এম ওলি উল্যার বিশেষ উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. মোহা: হাছানাত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার প্রথমেই মহান একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বগুড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ। আমাদের নিজস্ব জাতিসত্তা ও ইতিহাসকে পুনর্গঠন করতে হলে বগুড়ার ইতিহাস চর্চার কোনো বিকল্প নেই। এই ধরনের আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চা যত বাড়বে, আমাদের তরুণ প্রজন্ম ততই নিজেদের শেকড় এবং অতীতের বৃহত্তর পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারবে। আমি এখান থেকে বগুড়ার ইতিহাসের অমূল্য স্মৃতি নিয়ে ফিরে যাবো।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক ড. এ. কে. এম ওলি উল্যা বলেন, “বগুড়া কেবল একটি জেলা নয়, এটি হাজার বছরের সভ্যতা ও সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল। মহাস্থানগড়সহ এখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের সাক্ষী। এসব ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণ ও সঠিক গবেষণা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের গৌরবময় পরিচয় হারিয়ে ফেলবে।”
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দৈনিক ভোরের আকাশের সম্পাদক ওবায়দুল রহমান শাহীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বগুড়া প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল। এর ঐতিহ্য অত্যন্ত গৌরবময়। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমি নিজে অনেক সমৃদ্ধ হয়েছি।” তিনি বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানোর তাগিদ দেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—বিএনপির বগুড়া জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান, দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু এবং টিএমএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগমসহ অনেকে।
এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করছেন। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন অধিবেশনে বগুড়ার সংস্কৃতি, প্রত্নতত্ত্ব ও লোকজ ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও মতবিনিময় করা হবে। আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বগুড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মহলে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments