দিনাজপুরের বিরলে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে স্থানীয় সচেতন যুবকদের নিয়ে গঠিত ‘মাদক নির্মূল কমিটি’। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ৮নং ধর্মপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর-ধর্মজৈন এলাকা থেকে তারা ২৪২ বোতল ফেন্সিডিল সদৃশ ‘উইনসেরেক্স’ (WinSerex) সিরাপ উদ্ধার করেন।
মাদক নির্মূল কমিটি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে ঘনকুয়াশার সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা পুনর্ভবা নদীর পশ্চিম পাড়ে সুন্দরা এলাকা থেকে বনগাঁওর দিকে মাদক পাচার করছিল। কামদেবপুর-ধর্মজৈন এলাকায় অটো রিক্সায় সন্দেহভাজন কিছু প্লাস্টিকের প্যাকেট ওঠানোর দৃশ্য কমিটির সদস্যদের নজরে আসে। যুবকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা প্লাস্টিকে মোড়ানো ১০টি বড় প্যাকেট রাস্তায় ফেলে রেখে দ্রুত অটো রিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে প্যাকেটগুলো খুলে দেখা যায়, তার ভেতরে মোট ২৪২ বোতল ফেন্সিডিল সদৃশ উইনসেরেক্স সিরাপ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিরল উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ এই মাদকদ্রব্য তার কাছে হস্তান্তর করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) উদ্ধারকৃত মাদকগুলো জব্দ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা জানান, বিরলের ধর্মপুর ইউনিয়নের এই সীমান্ত এলাকায় ইদানীং মাদক কারবার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তারা নির্দিষ্টভাবে ১৮টি মাদক মামলার আসামি সাপুড়িয়ার ছেলে কবীরের নাম উল্লেখ করে বলেন, জেল থেকে বেরিয়ে এসে সে আবারও এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। চিহ্নিত এই মাদক কারবারিদের দমনে প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "সচেতন যুবকদের সহায়তায় ২৪২ বোতল অবৈধ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। মাদক নির্মূলে উপজেলা প্রশাসন সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে এবং স্থানীয়দের এই ধরনের উদ্যোগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments