নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ছোট স্ত্রীকে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় নিজের শ্বশুরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এতে গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন শ্বশুর এনতাজুল হক (৬০)।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের সময় উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুড়াকুটি গ্রামের ঘোপাপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাগলাটারী গ্রামের মজিদুলের ছেলে আবু তাহেরের (৩৫) সঙ্গে তার ছোট স্ত্রী রেজেকার (২২) দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। স্বামীর ওপর অভিমান করে কিছুদিন আগে রেজেকা তার বাবার বাড়ি দক্ষিণ দুড়াকুটির ঘোপাপাড়ায় চলে আসেন।
শুক্রবার দুপুরে আবু তাহের তার বড় স্ত্রী মিষ্টিকে (২৫) সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৯৫৫২) চালিয়ে শ্বশুরবাড়ি আসেন। সেখানে তিনি ছোট স্ত্রী রেজেকাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় রেজেকার বাবা এনতাজুল হক এবং মেজো বোন নারগিস বেগম (২৪) গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পথরোধ করেন। বাধা উপেক্ষা করেই আবু তাহের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে এনতাজুল হক চাকার নিচে পিষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতক জামাতা আবু তাহেরকে প্রাইভেট কারসহ আটক করে। পরে তাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। নিহতের মেয়ে নারগিস বেগম এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, “নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘাতক জামাতা ও প্রাইভেট কারটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments