রাষ্ট্রীয় শোকের মাঝেও হিন্দি গানে নেচে বিতর্কে কৃষক দল নেতা
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশ যখন শোকে মুহ্যমান, ঠিক সেই মুহূর্তে দলীয় নির্দেশনা ও রাষ্ট্রীয় শোক উপেক্ষা করে হিন্দি গানের তালে নেচে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল। শোকের আবহে এমন উচ্ছ্বাসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এই শোককালীন সময়ে সব ধরনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও ইংরেজি নববর্ষের অনুষ্ঠান সীমিত রাখার জন্য দলের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই শোকের পরিবেশ ও দলীয় শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন কৃষক দল নেতা রাসেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের ‘ফানসিটি শিশু পার্কে’ এসএসসি ৯৮ ব্যাচের একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন রাসেল। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে উচ্চ শব্দে হিন্দি গান বাজানো হলে রাসেল উপস্থিত সবার সামনেই গানের তালে কোমর দুলিয়ে নাচতে শুরু করেন। সেই নাচের ভিডিও ধারণ করে কেউ ফেসবুকে ছেড়ে দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
শোকের এই কঠিন সময়ে একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন অপেশাদার ও অনৈতিক আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, “মাদার অব ডেমোক্রেসির মৃত্যুতে আমরা যখন শোকে পাথর হয়ে আছি, তখন রাসেলের এই নাচ আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। এটি সরাসরি দলীয় আদর্শের পরিপন্থী। এমন দায়িত্বহীন নেতার কারণেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।” সাধারণ কর্মীদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষক দল নেতা রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বন্ধুদের পুনর্মিলনীতে গিয়েছিলাম। সেখানে বন্ধুদের চাপে পড়ে কিছুটা নেচেছিলাম। কিন্তু সেই ভিডিও কেউ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবে তা বুঝতে পারিনি।” তবে শোকের নির্দেশনার মধ্যে এমন কাজ করা ঠিক হয়েছে কি না, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা জানিয়েছেন, বিষয়টি জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments