Image description

দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে। দেশটির নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশীর্বাদ পেতে দুই প্রভাবশালী নারী নেত্রীর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে আছেন গণতন্ত্রকামী নেত্রী ও নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা মাদুরো ঘনিষ্ঠ ডেলসি রদ্রিগেজ।

বিগত বছরগুলোতে মাদুরোবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ মারিয়া কোরিনা মাচাদো এখন ওয়াশিংটনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে আসেন। ট্রাম্পের সমর্থন আদায়ে মাচাদো এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার’ মেডেলটি তাকে উপহার দেন তিনি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উপহারের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মাচাদোর পক্ষে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই নেত্রীর কট্টর সমর্থক।

অন্যদিকে, ডেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও বেশ নাটকীয়। গত বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রদ্রিগেজ, যেখানে ট্রাম্প তাকে ‘দারুণ ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। রদ্রিগেজ মূলত তেলের বাণিজ্যকে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ২০১৯ সালে বন্ধ হওয়া মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু এবং যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক কোটি ব্যারেল তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করতে বেশ কয়েকজন মার্কিন বন্দিকেও মুক্তি দিয়েছে তার সরকার।

ভেনেজুয়েলার ভাগ্য এখন অনেকাংশেই হোয়াইট হাউসের ওপর নির্ভরশীল। তবে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বরাবরই অভাবনীয়। মাচাদোকে সরাসরি সমর্থন না দিলেও তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প; আবার রদ্রিগেজের প্রশংসাও করেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে কোনো মুহূর্তে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ফেলো উইল ফ্রিম্যানের মতে, ডেলসি রদ্রিগেজ এখন ‘দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটছেন’। একদিকে তাকে ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য পূরণ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজ দেশে মাদুরোপন্থী সামরিক বাহিনী ও কট্টরপন্থীদের আস্থা ধরে রাখতে হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার কয়েক কোটি মানুষ এখন তাকিয়ে আছেন কারাকাস ও ওয়াশিংটনের এই ক্ষমতার লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর।

মানবকণ্ঠ/ডিআর