Image description

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৪ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ২৪ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যাপক উত্তেজনার মুখে বাউফল থানার ওসির দায়িত্ব স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিকেলে সেই উত্তেজনা পৌর শহরে ছড়িয়ে পড়লে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থকরা প্রচারণা চালানোর সময় জনৈক ভোটারকে অর্থ প্রদান করছেন—এমন অভিযোগে এক বিএনপি কর্মী ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জের ধরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিকেলে জামায়াত কর্মীরা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে হাসপাতালের সামনে এক বিএনপি কর্মীকে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষ ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে বাউফল থানার ফটকে বিএনপির প্রার্থীর গাড়ি আটকে দেয় জামায়াত সমর্থকরা, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এদিকে, বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে থানা ঘেরাও করে রাখেন জামায়াত নেতাকর্মীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা বাউফল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সালেহ আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মোহাম্মদ শাকুর, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান নির্বাচন পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। এই আশ্বাসের পর জামায়াত নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নেন।

উপজেলা জামায়াতের আমির ইসহাক মাওলানা বলেন, "অর্থ প্রদানের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় বিএনপি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের ২০ জন কর্মী আহত হয়েছেন।"

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন, "বিএনপির জোয়ার দেখে জামায়াত ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।"

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সালেহ আহমেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজকের সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পৌর শহরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর