Image description

স্বামীর বারণ উপেক্ষা করে জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অপরাধে ফেনীতে বিবি জহুরা নামের এক গৃহবধূকে মৌখিক তালাক দিয়েছেন এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কাওসার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে এবং গণধোলাই খেয়ে কৌশলে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে স্ত্রী জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দেন কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়ায় ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ওই সময় কাওসার বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন।

বিকেলে কাওসার লোকমুখে জানতে পারেন যে তার স্ত্রী নিষেধ অমান্য করে ভোট দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাগরিবের সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় সবার সামনে জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন এবং তাকে ঘরে ফিরতে নিষেধ করেন। এ সময় উপস্থিত জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর করে। একপর্যায়ে তালাক ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে তিনি দ্রুত পালিয়ে যান।

২০১৩ সালে জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১২, ৮ ও ৪ বছর বয়সী তিনটি সন্তান রয়েছে। বাবার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের মুখে অন্ন জোগাতে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। প্রতিবেশীরা জানান, কাওসার অত্যন্ত উগ্র প্রকৃতির লোক। বিয়ের পর থেকেই তিনি তুচ্ছ ঘটনায় জহুরাকে মারধর করতেন। ইতিপূর্বে শ্বশুরকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সালিশদার মোহাম্মদ আজাদ বলেন, “কাওসার এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ত্রাস সৃষ্টি করে রাখত। আজ তুচ্ছ কারণে সে তার তিন সন্তানের মাকে এভাবে ঘরছাড়া করল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বর্তমানে তিন সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বিবি জহুরা। প্রশাসনের কাছে তিনি এই অন্যায়ের বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা দাবি করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর