ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও একটি বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ১৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজনকে আটক করেছে। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ময়েনদিয়া বাজার। এই বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে সালথার খারদিয়া গ্রামের জিহাদ মিয়া ও টুলু মিয়ার সঙ্গে বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মান্নান চেয়ারম্যান বাজারটি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ৫ আগস্টের পর জিহাদ মিয়ার সমর্থকরা তাকে এলাকাছাড়া করে বাজারের দখল নেন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে মান্নান চেয়ারম্যান বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর মান্নান এলাকায় ফিরে এলে পুনরায় উত্তেজনা শুরু হয়।
এরই জেরে শনিবার সকালে উভয়পক্ষের হাজারো মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। চার ঘণ্টাব্যাপী এই রণক্ষেত্রে নটখোলা, খারদিয়া ও ময়েনদিয়া এলাকার পরিবেশ আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সালথা আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার জানান, নির্বাচনের পর থেকেই এই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। শনিবার সকালে তারা বড় ধরনের সংঘর্ষে লিপ্ত হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে সালথা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments