বগুড়ায় আলু চাষির কাছে চাঁদা দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়ার শাজাহানপুরে আলুবাহী ট্রাক থামিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী এক কৃষক গত রোববার (৯ মার্চ) রাতে শাজাহানপুর থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন— শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন ও জনৈক শহীদসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কৃষক মেহেদী হাবীব আব্বাসী (৪৮) নিজের জমি থেকে উত্তোলিত আলু হিমাগারে পাঠানোর জন্য রওনা হন। পথিমধ্যে রাজশাহী-বগুড়া মহাসড়কের বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাঁর আলুবাহী গাড়ির গতিরোধ করেন। এ সময় তারা প্রতি বস্তা আলুর জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। কৃষক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং হিমাগারে আলু নিতে বাধা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক মেহেদী হাবীব আব্বাসী বলেন, “গত ১৫-১৬ দিন ধরে খরনা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আলু চাষিদের হিমাগারে যাওয়ার পথে তারা হয়রানি ও চাঁদাবাজি করছে। বীরগ্রাম স্ট্যান্ডে আমার গাড়ি থামিয়ে চাঁদা না পেয়ে তারা আমাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আইয়ুব আলী দাবি করেন, তিনি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, কৃষকের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, “সড়কে বা নির্ধারিত বাজারের বাইরে কোনো ধরনের অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। যারা এ কাজ করছে তারা ইজারাদার নয়, বরং অপরাধী। সাধারণ কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments