Image description

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদী তীররক্ষা বাঁধ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও লেক্সজোন ল’ চেম্বার্সের হেড অব চেম্বার্স অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া রেজিস্ট্রি ডাক (এ/ডি) ও ই-মেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠান।

অ্যাডভোকেট মো. আল আমিন বাবুল, অ্যাডভোকেট মো. আল মানিক, অ্যাডভোকেট মো. খালিদ মিরাজ হোসাইন, অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত সামিম এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. আশরাফুল ইসলামের পক্ষে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, চরফ্যাশন উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে একাধিক ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সরকার নির্মিত নদী তীররক্ষা বাঁধ ও কংক্রিট ব্লক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮টি ড্রেজার নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছে। ফলে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত তৈরি হচ্ছে এবং বিপুল ব্যয়ে নির্মিত তীররক্ষা বাঁধ ধীরে ধীরে নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। ইতোমধ্যে বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন সড়ক ও পন্টুন এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজননক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়ায় স্থানীয় জেলেদের জীবিকা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্বে এ অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিটি ড্রেজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা করে অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে বলেও নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, ভোলা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা পরিবেশ অফিসের সহকারী পরিচালক এবং দক্ষিণ আইচা ও শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) মোট ১৪ জন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী তীররক্ষা বাঁধ, বাবুরহাট লঞ্চঘাট ও স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।