নারায়ণগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মাদক কারবারিদের পরিকল্পিত হামলায় রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের পাশের সংযোগ সড়কে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত দুই মাদক কারবারিকে ইতোমধ্যে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল মো. আরিফ। বর্তমানে তাঁরা নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে এসআই মিজান ও কনস্টেবল আরিফ রেললাইন এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এসময় তাঁরা মাদকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সিএনজিতে তোলার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আটককৃতদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁদের বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা উপস্থিত জনতাকে ‘ভুয়া পুলিশ’ ও ‘মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর’ কথা বলে বিভ্রান্ত করে একটি ‘মব’ বা গণপিটুনির পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করার দৃশ্য দেখা গেছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের বাঁচাতে সাধারণ মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তুলেছিল। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই দিন রাতে দুইজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো—শহরের গলাচিপা এলাকার অনিক (২৫) ও মিস্টার (২৪)। পুলিশের দাবি, এরা পেশাদার মাদক কারবারি।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, "জিআরপি পুলিশ নিয়মিত টহলের সময় মাদকসহ আসামিদের ধরার পর এই হামলার শিকার হয়। যেহেতু তাঁদের কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না, তাই তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করতে পারেননি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments