Image description

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গোপনে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস বিভিন্ন হোটেলে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে উপজেলার খলিশাজানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জবাইয়ের অপেক্ষায় থাকা ৯টি জীবিত ঘোড়া ও একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম (২৯), কালিয়াকৈরের রামচন্দ্রপুর এলাকার মুন্না মিয়া (২৩), গাজীপুর মহানগরের এরশাদ নগর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন (২৬), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মাহমুদ মাঝি (৩৯) এবং ঢাকার জিনজিরা এলাকার আবুল পাটোয়ারী (৪৬)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রাতের আঁধারে বনের নির্জন এলাকায় ঘোড়া জবাই করে আসছিল। পরে সেই মাংস গরুর মাংস বলে গাজীপুর ও আশপাশের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করত তারা। মঙ্গলবার ভোরে খলিশাজানি এলাকায় সরকারি বনের পাশে ঘোড়া জবাইয়ের প্রস্তুতি চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও এলাকাবাসী মিলে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে হাতেনাতে ৫ জনকে আটক করা হয় এবং ট্রাকভর্তি ৯টি ঘোড়া উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ মার্চ উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘাইর এলাকায় বনের ভেতরে ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও হাড়গোড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তারকৃতরাই সেই ঘটনার সাথে জড়িত।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এই অপকর্ম করে আসছিল। আজ জবাইয়ের আগেই আমরা তাদের আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

মানবকণ্ঠ/ডিআর