পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলতে নতুন রূপে সেজেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত সাফারি পার্ক। এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে পার্কে যুক্ত হয়েছে তিনটি নতুন সিংহ। নতুন এই অতিথিদের দেখতে ঈদের প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক থেকে একটি পুরুষ ও দুটি স্ত্রী সিংহ এখানে আনা হয়েছে। নতুন এই তিনটি সিংহসহ বর্তমানে পার্কে মোট সিংহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটি। দর্শনার্থীরা এখন ‘কোর সাফারি জোনে’ বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে এই রাজকীয় প্রাণীদের বিচরণ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের বিনোদনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেই এই নতুন সিংহগুলো যুক্ত করা হয়েছে। এতে পার্কে আগত পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।’
ঈদের ছুটি উপলক্ষে দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী মঙ্গলবার পার্ক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও, পর্যটকদের সুবিধার্থে এই মঙ্গলবার পার্ক খোলা রাখা হয়েছে। এছাড়া নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য সাতটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) মিনিবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা দিয়ে পর্যটকরা কোর সাফারি এলাকা ঘুরে দেখছেন।
সাফারি পার্কে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৫০ টাকা। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়; বৈধ পরিচয়পত্র দেখালে তারা মাত্র ১০ টাকায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া কোর সাফারি জোন ঘুরে দেখার জন্য আলাদাভাবে ১৫০ টাকার টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।
পার্কের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে আফ্রিকান কোর সাফারি জোন, যেখানে বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, হরিণ ও নীলগাইয়ের মতো বন্যপ্রাণীরা উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করে। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে ‘নাইন ডি থিয়েটার’, যেখানে প্রাণী ও প্রকৃতি বিষয়ক রোমাঞ্চকর তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা পার্কে নতুন সিংহ যুক্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, সারা বছরের কর্মব্যস্ততা শেষে প্রাকৃতিক পরিবেশে এমন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তাদের ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে, যা পার্কটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পুরো পার্ক এলাকায় কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments