Image description

মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। তবে তীব্র পেট্রোল ও অকটেন সংকটে বর্তমানে এসব মোটরসাইকেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। যাতায়াতের জন্য এখন তাদের ১০ কিলোমিটারের বেশি পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে। একইসঙ্গে বেকার হয়ে পড়েছেন অন্তত ৫০০ মোটরসাইকেল চালক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার শিলই এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ও কামারখাড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের জন্য কোনো পাকা রাস্তা নেই। জমির আইল ও সরু কাঁচা পথে মোটরসাইকেলই ছিল যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। এসব পথ দিয়ে শরীয়তপুর জেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষও যাতায়াত করেন। জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল বন্ধ হওয়ায় হাসাইল-বানারী ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দারাও বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, আগে যে পথ মোটরসাইকেলে ২০-৩০ মিনিটে পাড়ি দেওয়া যেত, এখন সেখানে হেঁটে যেতে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষক ও রোগীরা। বাজারে কৃষিপণ্য সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম ও সোহেল মিয়া জানান, প্রতিদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে তাদের ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা আয় হতো। এখন তেল না থাকায় তারা পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে সংসার চালানো এখন তাদের জন্য দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোক্তভোগী কৃষক মজিবর রহমান বলেন, "মাথায় করে পণ্য নিয়ে দীর্ঘ পথ হাঁটা অসম্ভব। সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় সবজি ও ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।" রহিমা বেগম নামে এক গৃহিণী জানান, যানবাহন না থাকায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এখন বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসী দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দাবি তুলেছেন তারা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর