পাথরঘাটায় ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা
বরগুনার পাথরঘাটায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) এলাকায় মেসার্স গাজী স্টোরে এই অভিযান চালানো হয়। অবৈধ মজুতের দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মেসার্স গাজী স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল্লাহ গাজী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল মজুত করে আসছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাপস পালের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৯০টি ব্যারেলে মোট ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়, যার সরকারি বাজারমূল্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় পাথরঘাটার অনেক জেলে সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছিলেন না।
অভিযান চলাকালে ইউএনও তাপস পাল জব্দকৃত ডিজেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ট্রলার মালিকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি লাইসেন্স বহির্ভূত ও অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত রাখার অপরাধে আব্দুল্লাহ গাজীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানির অভাবে পাথরঘাটার শত শত ট্রলার সাগরে যেতে পারছিল না। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে। জব্দকৃত তেল তালিকা অনুযায়ী রাতেই ট্রলার মালিকদের কাছে বিক্রি করা হবে এবং জেলেরা রাতেই সাগরের উদ্দেশে রওনা দেবেন।’
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল জানান, ‘জ্বালানি নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা মজুতদারি বরদাস্ত করা হবে না। জব্দকৃত ডিজেল দ্রুত জেলেদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments