Image description

ময়মনসিংহে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের সংক্রমণ। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে হামে মোট ১০ জন শিশুর মৃত্যু হলো। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই; শয্যা সংকটে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, হাসপাতালে কোনো ‘পেডিয়াট্রিক আইসিইউ’ (পিআইসিইউ) ব্যবস্থা নেই। এমন অবস্থায় হামের পাশাপাশি তীব্র নিউমোনিয়া ও রক্তে ইনফেকশন নিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক মাসের শিশু রোহানকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা উদ্ভাবনী পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। নবজাতক রোহানের ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা নিজেদের তৈরি ‘বাবল সি-প্যাপ’ (Bubble CPAP) ব্যবহার করছেন।

রোহানের মা চম্পা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “ছেলের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ডাক্তাররা ওকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আগের চেয়ে একটু ভালো হলেও এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ইউনিটে ৭২ জন চিকিৎসাধীন আছেন এবং এ পর্যন্ত মোট ৩৪৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় হাম ওয়ার্ডটি ৬ তলা থেকে সরিয়ে ৮ তলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর উপজেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৫০ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিশেষ কর্মসূচি চলছে।

মমেক হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম মাওলা বলেন, “আমাদের এখানে আইসিইউ-এর জন্য প্ল্যান্ট তৈরি করা হলেও এখনো সরকার থেকে যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়া হয়নি। ফলে সংকটময় পরিস্থিতিতে সি-প্যাপ পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা নবজাতকদের অক্সিজেন সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছি।”

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রোগী বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ড সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে তিনি অভিভাবকদের সঠিক সময়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর