Image description

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় তিন ফসলি কৃষিজমির মাটি কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি তোয়াক্কা না করে একটি অসাধু চক্র দিনদুপুরে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে বিক্রি করছে। এই ঘটনায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) জব্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে কর্ণফুলী থানাধীন উত্তর বন্দর শ্মশানের পাশে মো. সাইফুল আলম নামে এক ব্যক্তির ৩৮ শতক তিন ফসলি জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছিল একদল প্রভাবশালী। ভুক্তভোগী জমির মালিক লিখিত অভিযোগ দিলে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার এক্সকাভেটরটি জব্দ করেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িত সৈয়দ ও জহির নামের দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কৃষক মো. সাইফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, 'স্থানীয় সৈয়দ ও জহির নামের দুই ব্যক্তি গতকাল থেকে আমার জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশকে জানিয়েছি। আমি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'

অভিযুক্ত জহির তার দায় অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি শুধু গাড়ি ভাড়া দিয়েছেন এবং জমির মালিকদের সম্মতিতেই মাটি কাটা হচ্ছে। তবে জমির মালিকের নির্দিষ্ট কোনো পরিচয় তিনি দিতে পারেননি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চক্রটি সাধারণ কৃষকদের জমি ও সরকারি খাস জমির মাটি লুট করছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। এছাড়া ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দ্রুত এই মাটি লুট বন্ধ না হলে এই অঞ্চলে কৃষিজমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, 'মাটি কাটার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি এক্সকাভেটর জব্দ করেছি। জড়িতরা পালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।'

মানবকণ্ঠ/ডিআর