Image description

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার করে তা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি।  

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ প্রক্রিয়া ধীরে এগোনো হবে এবং প্রয়োজনে বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে। তিনি “পারমাণবিক ধূলিকণা” দ্রুত পুনরুদ্ধারের কথাও উল্লেখ করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।

ট্রাম্পের 'পারমাণবিক ধূলিকণা'র উল্লেখটি গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলার পর অবশিষ্ট থাকা ধূলিকণার প্রতি ইঙ্গিত করে।

ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৯০০ পাউন্ডেরও বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধের একটি প্রধান কারণ ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। ইরানের ভাষ্যমতে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ—যে প্রক্রিয়াটি এর সময়কালের ওপর নির্ভর করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি এবং পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র উৎপাদন করে—শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।

এদিকে যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তির সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে তার নৌ অবরোধ বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি চুক্তিটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো।

ট্রাম্প বলেছেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে এবং এই আলোচনা "সম্ভবত সপ্তাহান্তে" অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, চুক্তি হয়ে গেলে তিনি "হয়তো" ইসলামাবাদে যাবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম কেনার একটি চুক্তি বিবেচনা করছে—এমন একটি প্রতিবেদনের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো অর্থের লেনদেন হচ্ছে না।"