চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, পুলিশের নজরদারিতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগরীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সিটি কলেজে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত না হলেও সকাল থেকেই পুলিশি টহল দেখা গেছে। দুপুরে কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাদিক কায়েম দুপুরে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, “হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া পুলিশের কোনো সদস্যের যদি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি থাকে, তবে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, পুরো চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সূত্রপাত হয় ক্যাম্পাসের একটি দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে। শিবিরের আঁকা ‘ছাত্র-রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা গ্রাফিতিতে কেউ একজন ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যা পরবর্তীতে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় এবং ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments