ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে। ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে আসা এই চালানের মাধ্যমে চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত মোট ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসলো। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) আহসান হাবিব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় পাইপলাইনের মাধ্যমে ৭ হাজার মেট্রিক টনের এই চালানের পাম্পিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল থেকে এই চালানের সরবরাহ শুরু হয়েছিল।
ডিপো সূত্রে জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসে ভারত থেকে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে সমঝোতা হয়। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন, ১৮ এপ্রিল ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং সবশেষ ২৩ এপ্রিল ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে। আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিল থেকে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টনের একটি নতুন চালান আসা শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুর ডিপোতে এসেছিল। ভারত থেকে আসা এই ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর রাষ্ট্রায়ত্ত তিন সংস্থা—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হয়।
উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সারাবছর জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আমদানি শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে। বর্তমানে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুযোগ থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments