Image description

মাদারীপুরের ডাসারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের হামলায় মারুফ সরদার (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহত মারুফ সরদার ডাসার উপজেলার বালীগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকার নুর ইসলাম সরদারের একমাত্র ছেলে। মারুফের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত চাচা মফাজ্জেল সরদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।

স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, খাতিয়াল এলাকার নুর ইসলাম সরদারের সাথে তাঁর চাচাতো ভাই মফাজ্জেল সরদারের জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার সকালে নুর ইসলামের জমির গাছ জোরপূর্বক কাটতে শুরু করেন মফাজ্জেল। নুর ইসলাম বাধা দিতে গেলে মফাজ্জেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করলে আহত নুর ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মাদারীপুর শহরের দিকে রওনা হন।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভ্যানে করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ভদ্রখোলা নামক এলাকায় পৌঁছালে মফাজ্জেল সরদার, তাঁর দুই ছেলে ইকবাল ও ইমরান, নাতি ইয়ামিন এবং পুত্রবধূরা মিলে পুনরায় তাঁদের গতিরোধ করে হামলা চালায়। দ্বিতীয় দফার এই হামলায় মারুফ ও তাঁর বোন গুরুতর আহত হন। মারুফকে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা মাহিনুর বেগম। তিনি আহাজারি করে বলেন, “পাঁচ মেয়ের পর আল্লাহ আমাকে একটি ছেলে দিয়েছিল। মফাজ্জেল ও তাঁর ছেলেরা আমার বুক খালি করে দিল। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই।”

এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারুফ নামে এক কিশোর মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। নিহতের পরিবার এখন হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। পুলিশ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।”

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর