Image description

কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গাধর ও তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী মানুষ। গত এক সপ্তাহে জেলার ৫টি ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি ও সাজানো বসতবাড়ি। জীবন-জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়া এই পরিবারগুলো স্থায়ী পুনর্বাসনের অভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। ১৬টি নদ-নদী বিধৌত এই জেলায় প্রতি বছর ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয় প্রায় ৫ হাজার পরিবার। বর্তমানে গঙ্গাধর ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ, মাঝের চর, গতিয়াশাম ও মন্ডলপাড়া এবং উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা ও কালপানির বাড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

অন্যদিকে, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে গঙ্গাধর নদীর ভাঙনে গত এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে চৌধুরীগুড়ি বিজিবি ক্যাম্প, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য ক্লিনিক, উচ্চ বিদ্যালয় ও স্থানীয় বাজার। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে নারায়ণপুর ইউনিয়নের চৌধুরীগুড়ি গ্রামটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বল্লভেরখাস, কচাকাটা ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহবুবে হোসেন বলেন, "প্রতিদিন নদী আমাদের জমি গিলে খাচ্ছে। এখন ঘরবাড়িও ঝুঁকির মুখে। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।" একই এলাকার গৃহিণী রহিমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, "ভাঙনের ভয়ে রাতে ঘুমাতেও পারি না। প্রতিবারই কাজের আশ্বাস পাই, কিন্তু বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না।"

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, "নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণে রাষ্ট্র সহায়তা করে। আমাদের দেশেও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করা জরুরি।" সাংবাদিক সায়েদ আহমেদ বাবু জানান, দীর্ঘমেয়াদী নদী শাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং পুনর্বাসন নীতিমালা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার তিস্তা নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "গঙ্গাধর ও তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য প্রধান কার্যালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর