Image description

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে টানা সাত দিনের কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি আর বজ্রপাতের পর রোববার (০৩ মে) সকালে ঝলমলে রোদের দেখা মিলেছে। এতে বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগের আতঙ্ক কাটেনি এখনো। একদিকে হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া, অন্যদিকে শ্রমিক ও হারভেস্টার মেশিনের সংকটে এখনো ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন হাজারো কৃষক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে মাঠের খলাগুলো (ধান মাড়াইয়ের স্থান) কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে সরকারি পাকা রাস্তায় ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছেন। বাড়ির আঙিনায় ত্রিপাল ও নেট জাল বিছিয়ে ভেজা ধান রোদে দেওয়ার ব্যস্ততা বেড়েছে নারী-পুরুষ সবার মধ্যে। দীর্ঘ নিস্তব্ধতার পর হাওরপাড়ের গ্রামগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরলেও অধিকাংশ কৃষকের চোখেমুখে রয়েছে বিষাদের ছাপ। কারণ, টানা বৃষ্টিতে স্তুপ করে রাখা অনেক ধানে ইতোমধ্যে চারা গজিয়ে গেছে।

উপজেলার লম্বাবাক গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী কৃষক মোঃ ছবর আলী চোখের পানি মুছে বলেন, “কয়েক দিন পর রোদ এসেছে ঠিকই, কিন্তু হাওরের কোমর পানিতে ডুবে থাকা ধান কেটে জাঙ্গালে (উঁচু স্থানে) রেখে এসেছি। এখন বুঝতে পারছি না জাঙ্গালের ধান আনব, নাকি খলায় চারা গজানো ধান শুকাব।” শ্রমিক না পাওয়ায় এই বৃদ্ধ বয়সেও ছেলেদের নিয়ে নিজেই কাজে নেমেছেন তিনি।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তার প্রায় অর্ধশত মণ ধানে চারা উঠে গেছে। আবহাওয়া আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিবারের সবাই মিলে সামর্থ্য অনুযায়ী ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, “আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার নদীগুলোতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সুনামগঞ্জের হাওরগুলো তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা কৃষকদের অবশিষ্ট ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি।”

এদিকে, সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় হাওরজুড়ে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা প্রদান করেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর