চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা খাতুনগঞ্জে আমানতের টাকা ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ বাতিলের দাবিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কয়েক শ বিক্ষুব্ধ গ্রাহক রোববার (৩ মে) সকালে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও তারা নিজেদের জমানো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। সম্প্রতি তারল্য সংকটে থাকা এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হলেও সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই খাতুনগঞ্জ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তারা ব্যাংকের শাখাগুলোর সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখায় তালা লাগিয়ে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিক্ষুব্ধ নারী উদ্যোক্তা শারমিন আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্যাংকে আমাদের লাখ লাখ টাকা জমা আছে, অথচ তুলতে গেলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র এক হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে বর্তমান বাজারে একবেলার বাজারও হয় না। আমাদের জমানো টাকা নিয়ে এমন তামাশা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি অবিলম্বে লেনদেন স্বাভাবিক করা এবং ‘হেয়ার কাট’ (মুনাফা কেটে রাখার নির্দেশ) বাতিলের দাবি জানান।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক মো. আজম উদ্দীন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপুর্ণভাবে দাবি জানালেও কোনো ফল মেলেনি। নতুন সরকারের কাছে আমাদের অনেক আশা ছিল, কিন্তু গত দুই মাসেও আমানত ফেরতের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
উল্লেখ্য, তারল্য সংকটে জর্জরিত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে সম্প্রতি একীভূত করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ার পরও গ্রাহকরা টাকা তুলতে না পারায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আমানত ফেরতের সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments