শরীয়তপুরে উদ্বোধনের আগেই লুটেরাদের দখলে হাসপাতাল
৫০ লাখ টাকার সম্পদ সাবাড়
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত ৫০ শয্যার আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালুর আগেই লুটেরাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতাল ভবন দীর্ঘদিন ধরে অচল ও অরক্ষিত পড়ে থাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি সম্পদ খোয়া গেছে। প্রশাসনের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে এ জন্য দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
সর্বশেষ গত সপ্তাহে গভীর রাতে হাসপাতালের একাধিক কক্ষের তালা ভেঙে জেনারেটরের কয়েল, এসি ও মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এর আগেও কয়েক দফা চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরচক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ও আব্দুল কাদের মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই হাসপাতাল নির্মাণ করলেও কর্মকর্তাদের অবহেলায় সব লুট হয়ে যাচ্ছে। এটি এখন চোরদের জন্য খোলা মাঠে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় চারতলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পাঁচ শয্যার আইসিইউ ইউনিটসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও আদালতের মামলার কারণে এটি দীর্ঘ দিনেও চালু করা সম্ভব হয়নি।
নির্মাণ শেষে হস্তান্তর প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। জাতীয় নির্বাচনের সময় এখানে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প থাকলেও তারা চলে যাওয়ার পর ভবনটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে এই সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে জেলা সিভিল সার্জন অফিস এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপের সংস্কৃতি দেখা দিয়েছে। সিভিল সার্জন বলছেন ভবন এখনো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি, অন্যদিকে প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে তাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বাহার মিয়া জানান, “চুরির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।” তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু তদন্ত নয়, দায়িত্ব অবহেলার জন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত হাসপাতালটি চালু করতে হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments