সন্দ্বীপে এবিসি ব্রিকস নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এবিসি নামীয় একটি ব্রিকফিল্ডকে ঘিরে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আইনি প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (৫ মে) উপজেলার এনাম নাহার মোড়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সন্দ্বীপ শাখার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ওবায়েদ উল্লাহ জসিম, মো. আমিনুর রসুল হেলাল, মো. ইমরুল কায়েস, কাজী শামসুল আহসান খোকনসহ অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা।
লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, ২০২১ সালের ১ নভেম্বর সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ও কাছিয়াপাড় এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে এবিসি নামীয় ব্রিকফিল্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে স্থানীয় কয়েকজনের আহ্বানে তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে অংশীদার হন। তবে দীর্ঘ চার বছর অতিবাহিত হলেও কোনো শেয়ার সার্টিফিকেট বা বৈধ চুক্তিপত্র তাদের দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ করা হয়, ব্রিকফিল্ডটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. রহিম উল্লাহ এবং ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মাসুদ রানা ও শ্যামল কান্তি রায়। বিনিয়োগকারীদের দাবি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সন্দ্বীপ শাখায় হিসাব খোলা হলেও এককভাবে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে এবং জমাকৃত প্রায় ৩৬ লাখ টাকার কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রদান করা হয়নি।
তারা আরও বলেন, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্রিকফিল্ডে ব্যাপক উৎপাদন ও বিক্রি হলেও বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও হিসাব দেওয়া হয়নি। বরং গোঁজামিলপূর্ণ হিসাব দেখিয়ে প্রকৃত লাভ গোপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কোনো ধরনের সভা ছাড়াই মজুদ ইট বিক্রি ও সম্পদ বিক্রির অভিযোগও তোলেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা ব্রিকফিল্ডের মোট জমির প্রায় ৯০ শতাংশের মালিক, যা বৈধ দলিল দ্বারা প্রমাণিত। এরপর বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ২০২৫ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে একাধিক বৈঠক ও শালিস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অডিট রিপোর্টে অনিয়মের বিষয় উঠে আসে এবং পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু অভিযুক্তরা চেক প্রদান করলেও অর্থ পরিশোধ না করে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে ব্রিকফিল্ডটি প্রায় আড়াই কোটি টাকায় অন্যত্র বিক্রির চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ দখল বাতিল এবং তাদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।




Comments