Image description

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বিগত সময়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের মহোৎসব চলেছে। তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং বিপুল বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব এখনও দেশের অর্থনীতিকে বইতে হচ্ছে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অনেক প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। কোথাও কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে, কোথাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে চলে গেছে, আবার অনেক প্রকল্প অহেতুক থমকে আছে। এর ফলে একদিকে যেমন উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের চরম অপচয় হয়েছে।”

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, “অস্বচ্ছতার কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন বড় প্রকল্পগুলোতে বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

পদ্মা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বপ্নের প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে এই সেতুর নির্মাণ ইতিহাস ও ত্যাগের কথা জানাতেই জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

সেতু বিভাগের সচিব ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম নাসিরউদ্দিন সরদার। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর