Image description

ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলকারী ‘সুন্দরবন’ ও ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ। পরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টায় রেলস্টেশন চত্বরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি শুরু হয়। 

বিক্ষোভকারীরা জানান, কুমারখালী একটি ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের হাট রয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ না হওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

আন্দোলনের মুখে সকাল পৌনে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার এবং কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। প্রশাসন আগামী ২৭ জুনের মধ্যে অন্তত একটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি কার্যকরের আশ্বাস দিলে বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

বিক্ষোভের সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা ২৭ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল ও ব্যবসায়ী ইকবাল কবীর দিলু জানান, ট্রেনের যাত্রাবিরতি হলে এ অঞ্চলের রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, “কুমারখালীর গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে ট্রেনের যাত্রাবিরতি জরুরি। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জোরালোভাবে জানিয়েছি।” অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, ফাইলটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আগামী ২৭ জুনের মধ্যে একটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর