Image description

বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সক্রিয় দালাল চক্রের ৮ সদস্যকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও র‍্যাব-৮। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে হাসপাতালের বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজন রায় এবং র‍্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আশিক ইকরাম সৌরভ। আটককৃতদের মধ্যে ৬ জন নারী ও ২ জন পুরুষ রয়েছেন।

আটককৃতরা হলেন— তাসনিম জাহান মিম (২৩), হাফিজা আক্তার, সুমি আক্তার (১৯), লাবনী আক্তার নাজমা (২৮), মো. রুবেল (২২), আয়েশা সিদ্দিকা (৩০), ছাবিনা (৩০) ও রুমান সরদার (১৭)।

ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে আউটডোর ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে এই দালাল চক্র ওতপেতে থাকে। নতুন রোগী আসা মাত্রই তারা সরকারি চিকিৎসা পাওয়া অসম্ভব বলে ভীতি সৃষ্টি করে এবং প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি।

রুপাতলী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ফারুক হোসেন বলেন, “হাসপাতালে ঢোকার পরই কয়েকজন এসে দ্রুত ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বিভ্রান্ত করতে শুরু করে। পরে তারা আমাদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে বলে। আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারি না কে সাহায্য করছে আর কে প্রতারণা করছে।”

অভিযান শেষে র‍্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আশিক ইকরাম সৌরভ জানান, “হাসপাতালে আসা অসহায় রোগীদের হয়রানি ও প্রতারণা বন্ধে আমাদের এই নজরদারি এবং অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

সচেতন মহলের দাবি, সাময়িক অভিযানের পাশাপাশি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে দালালদের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো অসাধু কর্মচারী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর