Image description

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই জঘন্য অপরাধের বিচার না করে প্রভাবশালী মাতব্বররা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের পাঁচ কাউনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়া (৩৫) ওই এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে (রোববার) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী প্রতিবেশী মঞ্জু মিয়ার বাড়িতে খেলতে যায়। এসময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়া গরুকে ঘাস দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে গোয়াল ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটির সাথে থাকা তার এক ছোট ভাই বিষয়টি দেখে ফেলে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে বাড়িতে খবর দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে মঞ্জু মিয়া শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত ১৩ মে (রোববার) ভুক্তভোগীর বাড়ির আঙিনায় এক বিতর্কিত সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে পাঁচগাছি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান, শানের হাট ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মধু মিয়া ও মাতব্বর নওশাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অভিযুক্ত যুবককে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য কেবল ‘সতর্ক’ করে দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়া হয়।

বিচারের নামে এই প্রহসনে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মা। শিশুর মা আক্ষেপ করে বলেন, “ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সমাজপতিরা আমাদের মুখ বন্ধ রাখতে বলেন এবং সালিশে বিচারের আশ্বাস দেন। কিন্তু বিচারে তারা অভিযুক্তকে মৃদু শাসন করে ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না?”

এ বিষয়ে পাঁচগাছি ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান সালিশের কথা স্বীকার করে বলেন, “অনেকেই উপস্থিত ছিলেন, সামাজিকভাবে বিষয়টি শেষ করা হয়েছে।” 

তবে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, “এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সামাজিক সালিশে মিমাংসা করা আইনের পরিপন্থী। এতে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।”

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজমুল হক বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার এমন নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলেও অর্থ ও পেশিশক্তির জোরে প্রতিবারই পার পেয়ে গেছেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর