দুই লাখ টাকার জমির জন্য ২০ বছর থেকে অচল ১২ লাখ টাকার সেতু
এক পাশে পাকা রাস্তা, অন্য পাশে সরু আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। মাঝখানে সরু খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু। অথচ নির্মাণের দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও দুই পাশের রাস্তার সঙ্গে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি আজও অচল। মানুষের চলাচল না থাকায় সেতুর গায়ে জমেছে শ্যাওলা, আর রেলিংজুড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এমনই এক বিস্ময়কর চিত্র। প্রায় ২০ বছর আগে নির্মিত সেতুটির এক পাশে পাকা সড়ক থাকলেও অপর পাশে রয়েছে ধানি জমি। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অচল নতুন সেতুর পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ একটি পুরোনো সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহজিবাজার-বাঘাসুরা-ছাতিয়াইন বাজার সড়কের রূপনগর গ্রামের খালের ওপর থাকা পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২০ বছর আগে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
তবে পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও স্থানীয় কিছু গ্রাম সরদারের বাধার কারণে পুরোনো সেতুটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে বাজেটের অর্থ ফেরত যাওয়ার অজুহাতে বিকল্পভাবে নতুন সেতুটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি আজও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে।
এলাকার বাসিন্দা সাইফুর রহমান রাসেল বলেন, “নতুন সেতুটি চালু না হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো সেতু দিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “আমি এখানে যোগদানের প্রায় ১৯ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময়ের প্রকৌশলীই ভালো বলতে পারবেন কেন শিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়নি। শুনেছি সেতুর পাশের জমির মালিক জায়গা দিতে রাজি হননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”
অভিযোগের বিষয়ে জমির মালিক রূপনগর গ্রামের বাসিন্দা কবির মিয়া বলেন, “আমি কখনো বিনামূল্যে জমি দেওয়ার কথা বলিনি। জমিটি আমার কেনা। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করলে আমি জায়গা দিতে রাজি আছি।”
স্থানীয় বাঘাসুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জোসনা আক্তার বলেন, “মাত্র দুই শতক জায়গা হলেই সংযোগ সড়ক করা সম্ভব। এর মূল্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা হবে। অথচ দুই লাখ টাকার জন্য ১২ লাখ টাকার সেতু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”




Comments