শরীয়তপুরে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলা
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত ডা. নাসির ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ডা. নাসির ইসলাম তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্বজন ও কিছু বহিরাগত ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে তণ্ডব চালায়। তারা ডা. নাসির ইসলামকে তার কক্ষ থেকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি চিকিৎসককে ঘিরে ধরে নির্মমভাবে মারধর করছেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলেও হামলাকারীরা ক্ষান্ত হননি। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
আহত চিকিৎসকের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, নাসির মাত্র তিন মাস আগে বিসিএসের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। সেবার ব্রত নিয়ে আসা একজন চিকিৎসকের ওপর এমন হামলা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার বলেন, “কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাটি অনভিপ্রেত। জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। এ বিষয়ে মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments