ডুয়েটে ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ আহত ২০
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকাল থেকে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে ‘অভ্যন্তরীণ শিক্ষক’ থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার থেকে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচির পর রোববার সকালে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
রোববার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে নবনিযুক্ত ভিসির যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি হেলমেট পরিহিত কিছু বহিরাগত ব্যক্তিকেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে দেখা গেছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরহাদ হোসেন জানান, হাসপাতালে অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিয়েছেন। গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে তিনি নিজে এবং অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা গেছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রদল, যুবদল ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার শেল ও গুলি নিক্ষেপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।
সরাসরি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে নবনিযুক্ত ভিসি ড. মোহাম্মদ ইকবাল গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অবস্থান করে তার যোগদানপত্রে স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর ইউএনও মো. সাজ্জাত হোসেন ও সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম। ইউএনও জানান, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ডুয়েটের চলমান ৮৬৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা নিয়েও ক্যাম্পাসে গুঞ্জন রয়েছে। তবে বর্তমানে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments