পরশুরাম সীমান্তে ভারতীয় অংশে বাঁধ নির্মাণ শুরু হলেও ধীরগতি বাংলাদেশে
ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে কহুয়া নদীর ভারতীয় অংশে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বাংলাদেশ অংশে কাজ শুরু না হওয়ায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা অনুযায়ী ভারত তাদের অংশে কাজ শুরু করার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশ অংশের প্রতিরক্ষা বাঁধ সংস্কারে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন ও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন সীমান্তসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম উপজেলার উত্তর কোলাপাড়া ও বাঁশপদুয়া সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের আমজাদ নগর এলাকায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ গত ১৫ দিন ধরে পুরোদমে চলছে। আন্তর্জাতিক আইনের জটিলতা কাটিয়ে উভয় দেশের সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে এই সংস্কার কাজ শুরু হয়। তবে ভারত তাদের অংশে কাজ করলেও বাংলাদেশ অংশে কোনো তৎপরতা নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, গত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বন্যায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতীয়রা তাদের অংশে উঁচু বাঁধ নির্মাণ করলে বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবল চাপে বাংলাদেশের ভঙ্গুর বেড়িবাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে উত্তর ও দক্ষিণ কোলাপাড়া, সাতকুচিয়া, বেড়াবাড়িয়া ও পরশুরাম বাজারসহ অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৃহত্তর নোয়াখালীর বড় একটি অংশে।
কোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা খোকন জানান, ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে এই বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএসএফের বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। তখনকার ফেলে রাখা হাজার হাজার সিসি ব্লক এখনো অযত্নে পড়ে আছে। তিনি বলেন, “ভারত তাদের অংশের কাজ শেষ করার পর আমরা কাজ শুরু করলে বিএসএফ পুনরায় বাধা দিতে পারে। তাই এখনই কাজ শুরু করা জরুরি। উত্তর কোলাপাড়া ও পরশুরাম বাজার রক্ষায় আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
একই গ্রামের ইমরান ও সোহাগ জানান, বাঁধের অনেক জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছে। ভারত তাদের অংশে মজবুত বাঁধ দিচ্ছে, ফলে বন্যার পানি এবার সরাসরি আমাদের জনপদে আঘাত হানবে। দ্রুত সংস্কার না হলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে।
ফেনী ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর বিল্লাল হোসেন জানান, দুই দেশের সম্মতিতে বাঁধ সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারত তাদের কহুয়া নদীর অংশটি সংস্কার করছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “বাঁধটি কীভাবে নির্মাণ করা হবে সে বিষয়ে বিজিবির অধিনায়কের সাথে আলোচনা চলছে। জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের আশ্বাস দিচ্ছি।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments