Image description

দাখিল পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী, জাল সনদ ও নকল বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জেরে রংপুরের পীরগাছায় সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুছ সরকারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। একটি মাদরাসার সুপার ও দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। আহত আব্দুল কুদ্দুছ সরকার দৈনিক সংবাদের পীরগাছা প্রতিনিধি ও পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

বুধবার (২০ মে) রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুছ সরকার জানান, রাতে সোনালী ব্যাংকের নিচে একটি কম্পিউটারের দোকানে বসে সংবাদ লেখার কাজ করছিলেন তিনি। এ সময় স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদরাসার সুপার লুৎফর রহমান তাকে বাইরে ডেকে আনেন। তিনি বাইরে আসামাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা দক্ষিণ ছাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দুলাল ও রামচন্দ্র মৌজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানসহ একদল লোক তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে খুনের হুমকি দেয়।

ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, গত ১৪ মে দৈনিক সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ‘লাখো টাকার চুক্তিতে চলছে দাখিল পরীক্ষায় অনিয়ম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তাম্বুলপুরসহ কয়েকটি মাদরাসার পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী বসানো, সিসিটিভির বাইরে নকলের সুযোগ করে দেওয়া এবং অতিরিক্ত টাকা আদায়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। সংবাদটি প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন তদন্তের নির্দেশ দেন এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আগেও নানা অনিয়মের রেকর্ড রয়েছে। শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি করার দায়ে দুদক মামলা করেছিল এবং তিনি দুই মাস জেল খেটেছিলেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শোকজ করা হয়েছিল।

পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, “অনিয়মের খবর প্রকাশ করায় এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। আমরা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর