Image description

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র পানি সংকট বিরাজ করছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পানির অভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত রোগীরা। সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাত-মুখ ধোয়া বা টয়লেটের কাজের জন্যও রোগীদের মিনারেল ওয়াটার কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াসা থেকে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিজস্ব একটি অগভীর নলকূপ থাকলেও তা থেকে প্রাপ্ত পানি বিশাল এই হাসপাতালের চাহিদার তুলনায় সামান্য। পানির অভাবে হাসপাতালের চারপাশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে এবং টয়লেটগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র গরমে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়লেও কর্তৃপক্ষ পানি সংকটের কারণে নতুন রোগী ভর্তিতে নিরুৎসাহিত করছে।

নোয়াখালী থেকে আসা এক নারী রোগী জানান, ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হলেও হাসপাতালে এসে দেখেন পানির হাহাকার। খাওয়ার পানির পাশাপাশি ব্যবহারের পানির জন্য তাদের প্রতিনিয়ত মিনারেল ওয়াটার কিনতে হচ্ছে। সীতাকুণ্ডের মো. হানিফ নামে এক রোগী আক্ষেপ করে বলেন, "হাসপাতালে সকালে মাত্র এক-দুই ঘণ্টা পানি পাওয়া যায়। গোসল করার জন্য আধা কিলোমিটার দূরের পুকুরে যেতে হচ্ছে।"

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড পর্যন্ত ওয়াসার নতুন লাইন স্থাপনের কাজের কারণে পুরনো সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া আশপাশের শিল্প কারখানাগুলোতে শক্তিশালী গভীর নলকূপ থাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, যার ফলে হাসপাতালের অগভীর নলকূপটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

বিআইটিআইডির উপ-পরিচালক ডা. ইফতেখার আহমেদ পানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "পানির অভাবে ডায়রিয়া রোগীদের সেবা দেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জরুরি কাজ সারতে প্রতি দুই দিন পরপর ওয়াসা থেকে গাড়ি দিয়ে পানি কিনে আনা হচ্ছে। সংকট সমাধানে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান হবে।"

তীব্র গরমে পানির এই হাহাকার দ্রুত বন্ধ না হলে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিবেশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর