Image description

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হতেই নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই ঢাকার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাসের সংকট আর তীব্র ভিড়ের সুযোগে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেগুনা ও ফিটনেসহীন ছোট যানবাহনে ঢাকা ছাড়ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাবতলী এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। যে যেভাবে পারছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। মাজার রোড থেকে মিরপুর রুটে চলাচলকারী লেগুনাগুলোতে যাত্রী তোলা হচ্ছে পাটুরিয়া ঘাটের জন্য। জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ ছোট যানবাহনে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। লেগুনা চালক লিটন জানান, যাত্রীচাপ বেশি থাকায় তিনি আজ দ্বিতীয়বারের মতো পাটুরিয়া ঘাটের ট্রিপ দিচ্ছেন। এছাড়াও রং চটা ও ফিটনেসহীন অনেক লোকাল বাসও দূরপাল্লার রুটে যাত্রী টানার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

পরিবার নিয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট যাবেন গার্মেন্টস কর্মী জোসনা বেগম। সাথে আছেন রিকশাচালক স্বামী মনিরুল। অগ্রিম টিকিট না পাওয়ায় রাস্তার ধারেই ব্যাগ নিয়ে বাসের অপেক্ষা করছেন তারা। জোসনা বলেন, “সন্তানরা গ্রামে থাকে, ১১ দিনের ছুটি পেয়েছি। বাসে সিট পাই বা না পাই, যেকোনোভাবে সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে হবে।”

শুধু সাধারণ শ্রমিক নয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও। সৈয়দপুর যাওয়ার জন্য আর বি পরিবহনের টিকিট কেটে ৩ ঘণ্টা ধরে কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন শিক্ষার্থী নুসরাত। অন্যদিকে, দিনাজপুরের বিরামপুর যাওয়ার জন্য দাদিকে নিয়ে ৬ ঘণ্টা ধরে কাউন্টারের সামনে বসে আছেন রাকিবুল হাসান। বাস সময়মতো না আসায় এবং পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গাবতলী থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের ওপর যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে যানবাহনের আধিক্যের কারণে গতি ফেরানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই