Image description

পবিত্র হজের প্রথম দিনে লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মিনার প্রান্তর। সকাল থেকে মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। তাঁবুর শহর মিনায় চলছে হজের মাসআলা-মাসায়েল ও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা।

এদিকে বিভিন্ন তাঁবু পরিদর্শন করে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। হাজীদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথাও শুনছেন তিনি।

জানা গেছে, গতকাল রোববার রাত ১০টার পর থেকেই মিনার উদ্দেশে রওনা হন হাজীরা। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী হাজীরা আজ মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে আগামীকাল আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে খুতবার পর একসঙ্গে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজীরা।

এ বছর হজের খুতবা প্রদান করবেন শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন হাজীরা। ইসলামী শরিয়তে আরাফাতে অবস্থান করাকেই হজের মূল অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর হাজীরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন তারা। পরদিন মিনায় ফিরে বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন হাজীরা।

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরকারি হাজীদের জন্য পাঁচ হাজার বিশেষ হাদিয়া প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। হাজীদের যাত্রাপথে স্বস্তি ও শক্তি জোগাতে প্রতিটি প্যাকেটে রাখা হয়েছে আলমারাইয়ের মাঠা, কমলা, বিশুদ্ধ পানি ও সুস্বাদু চকলেট।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আল্লাহর মেহমানদের প্রতি সম্মান, যত্ন ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হজের দীর্ঘ যাত্রা ও শারীরিক ক্লান্তির মাঝে এই উপহার হাজীদের কিছুটা প্রশান্তি এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ যেন হজ পালন করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সৌদি সরকার। মিনায় প্রবেশপথে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং প্রত্যেক হাজীর জন্য ‘নুসুক’ কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তীব্র গরমের কারণে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁবুর ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি প্রশাসন। পাশাপাশি সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, ছাতা ব্যবহার করা এবং বেশি বেশি পানি ও তরল খাবার গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।