Image description

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন ক্রমেই বিস্ফোরক ও ককটেল আতঙ্কের জনপদে পরিণত হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, তাজা ককটেল উদ্ধার এবং ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার এক প্রবাসীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে রাখা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিলাশপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারী কান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্যাংকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কালো রঙের কসটেপের টুকরাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে আগে থেকেই রাখা কোনো ককটেল থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিলাশপুর ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণ ও তৈরির ঘটনা এখন নিয়মিত বিষয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ৩১ মে জানখারকান্দি এলাকায় একটি কবরস্থানের পাশে রহস্যজনক বিস্ফোরণ ঘটে। তারও আগে গত ৮ জানুয়ারি ককটেল তৈরি করতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যু হলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে কয়েকটি ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হলেও এই চক্রের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পদ্মা নদীতীরবর্তী এই ইউনিয়নে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র এখানে গোপনে ককটেল তৈরি করে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। বারবার অভিযান সত্ত্বেও বিস্ফোরণ না থামায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই এখন সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। এই বিস্ফোরক কোথা থেকে এল এবং কারা এর সাথে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।"

বিলাশপুরের সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, ককটেল তৈরির পুরো নেটওয়ার্ক ও এর নেপথ্যের অর্থদাতাদের চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে হবে। অন্যথায় এই শান্ত জনপদে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

মানবকণ্ঠ/ডিআর