Image description

রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি আটটি হাসপাতাল ঘুরে জরুরি চিকিৎসা না পাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন দুলালী (৪০) বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি তীব্র রক্তস্বল্পতা (গুরুতর অ্যানিমিয়া) ও শরীরে লবণ-খনিজের ভারসাম্যহীনতাসহ সেপটিক শকে আক্রান্ত।

শনিবার দুপুরে দুলালীর চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

চিকিৎসকরা জানান, দুলালী দীর্ঘদিন ধরে মানসিকস্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালকের সঙ্গে ছিলেন মো. বদর উদ্দিন সোহেল, মো. রেহানউদ্দিন খান, আহাম্মদ মনজুরুল আজিজ ইমনসহ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, দুলালীর চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান সরকারিভাবে করা হচ্ছে। তিনি রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এর আগে, মুছা করিম রিপন নামে এক যুবক দুলালীকে উদ্ধার করে ৮ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেননি। সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই নানা অজুহাতে তাকে চিকিৎসা দিতে অপারগতা করে।

মুছা করিম সাংবাদিকদের জানান, গত ২২ মে সকালে তার বাসার পাশে একটি গলিতে দুলালীকে দেখতে পান। তিনি বিস্তারিত পরিচয় বলতে পারছিলেন না। অবস্থা খারাপ দেখে প্রথমে তাকে নেওয়া হয় শ্যামলীর মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এরপর নেওয়া হয় ফার্মগেটের মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে, এক্সিম ব্যাংক হসপাতালে, মোহাম্মদপুরের নিরাময় ক্লিনিকে এবং ধানমণ্ডির সুপারম্যাক্স হসপাতালে। সব জায়গা থেকেই নানা অজুহাতে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

মুছা করিম পরে ‘দুলালিকে বাঁচাতে চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দাঁড়ান।