উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সেই অজুহাতে দেশে সামরিক আইন জারির ষড়যন্ত্র করার দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১২ জুন) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউন সুক-ইওল পরিকল্পিতভাবে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই কোরিয়ার মধ্যে কৃত্রিমভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা এবং সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দেশে সামরিক আইন জারির যৌক্তিকতা প্রমাণ করা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বিশেষ কৌঁসুলির সুপারিশ অনুযায়ী ৩০ বছরের সাজা প্রদান করা হয়।
একই মামলায় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স কমান্ডের সাবেক প্রধান ইয়ো ইন-হিয়ংকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ড্রোন অপারেশনস কমান্ডের সাবেক প্রধান কিম ইয়ং-দেকে তিন বছরের সাজা দিয়ে তা পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এই ড্রোন অভিযানের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত তথ্য উত্তর কোরিয়ার কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ায় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ইউনের আইনজীবীরা এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার ‘আবর্জনাবাহী বেলুন’ পাঠানোর জবাবে এটি ছিল একটি বৈধ সামরিক পদক্ষেপ। তারা ইতিমধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত সামরিক আইন জারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউন সুক-ইওল বর্তমানে একাধিক মামলার মুখোমুখি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments