Image description

চলতি বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার কোনো বিধান (প্রভিশন) রাখা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। এ বিষয়ে অংশীজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।

এর আগে সকালে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পক্ষ থেকে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছিল, এবারও বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা কোনোভাবেই ‘সমর্থনযোগ্য নয়’।

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির এই সমালোচনার সূত্র ধরে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘ভালো বাজেটের কালো দিক কালো টাকা। এই সুযোগটা না রেখে বাজেটকে কালো টাকা মুক্ত করা যেত কিনা?’

প্রশ্নের উত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, বিষয়টি বুঝতে কিছুটা ভুল হচ্ছে। মূলত জমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে রেজিস্ট্রেশন মূল্য কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ যে আইনি জটিলতায় পড়েন, সেটি দূর করতেই এই পদক্ষেপ।

বিক্রেতাদের জন্য (গত বছরের নিয়ম): এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, কেউ যদি ৫ কোটি টাকায় জমি বিক্রি করেন কিন্তু মৌজা রেটের কারণে ১ কোটি টাকায় রেজিস্ট্রেশন হয়, তবে বাকি ৪ কোটি টাকা নিয়ে বিক্রেতা বিপাকে পড়েন। ব্যাংকিং চ্যানেল ও বায়নানামার মাধ্যমে ওই টাকার সত্যতা প্রমাণ করতে পারলে, রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫% গেইন ট্যাক্স দিয়ে তা বৈধ করার সুযোগ গত বছরই দেওয়া হয়েছিল।

ক্রেতাদের জন্য (এবারের নতুন নিয়ম): এবার ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের হয়রানি কমাতে একই ধরনের সুবিধা যুক্ত করার চিন্তা করা হয়েছে। যেমন—কেউ যদি ২০ কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনেন আর রেজিস্ট্রেশন হয় ৩ কোটি টাকায়, পরে ট্যাক্স কর্মকর্তারা বাকি ১৭ কোটি টাকার জন্য জরিমানা ও বাড়তি করের দাবিতে ক্রেতাকে হেনস্তা করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার জন্য এবার নিয়ম করা হয়েছে যে, ক্রেতারা যদি নিজেরা থেকে ডিক্লেয়ার করেন, তবে রেগুলার ট্যাক্সের পাশাপাশি বাড়তি ২০% (অন্যান্য ক্ষেত্রে ১৫%) দিয়ে তা প্রদর্শন করতে পারবেন। তবে এই প্রভিশন নিয়ে যদি কোনো আপত্তি থাকে, তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। তিনি জানান, বাজারের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে মৌজা রেট যে অনেক কম থাকে, তা সরকার অবগত আছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছি। অল্প সময়ে ইচ্ছা থাকলেও অনেক কিছু শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে মৌজা রেট পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা মৌজা রেটগুলোকে ‘রিয়েল ভ্যালু’ বা বাজারের প্রকৃত মূল্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও যোগ করেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ। এর জন্য সারা বাংলাদেশে মৌজাভিত্তিক জরিপ (সার্ভে) চালাতে হবে। কারণ একই মৌজায় বাজারের জমির মূল্য এক রকম, আবার ফসলি জমির মূল্য অন্য রকম। এই জরিপ শেষ করে মৌজা রেটকে যখন বাজার মূল্যের সমকক্ষ করা সম্ভব হবে, তখন জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে কালো টাকা সৃষ্টি বা তা সাদা করার কোনো সুযোগ আর থাকবে না।

মানবকণ্ঠ/আরআই