কালিয়াকৈরে দূষিত পানি পানে দেড় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, কারখানা বন্ধ ঘোষণা
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় সংলগ্ন ভাতারিয়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় দূষিত পানি পান করে অন্তত দেড় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেড নামক ওই কারখানায় এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কারখানার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে টিফিনের সময় কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই শ্রমিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। একে একে শ্রমিকরা বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথাঘুরা ও দুর্বলতা অনুভব করতে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক শ্রমিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ ও প্রাইভেট গাড়িতে করে অসুস্থ শ্রমিকদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। গুরুতর কয়েকজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
অসুস্থ শ্রমিকরা জানান, কয়েকদিন ধরেই কারখানার পানির স্বাদ ও গন্ধ কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল। বিষয়টি ম্যানেজমেন্টকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আজ পানি পান করার সময়ই পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল এবং পানের ৫ মিনিটের মধ্যেই পেটে প্রচণ্ড মোচড় দিয়ে ব্যথা ও বমি শুরু হয়।
কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার কাজী শফিক শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কারখানার ডিপ টিউবওয়েল ও ফিল্টারের পানি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। তার মতে, শ্রমিকরা বাসা থেকে কোনো খাবার বা পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটিকে ফুড পয়জনিং বা দূষিত পানিবাহিত রোগ বলে মনে হচ্ছে। অসুস্থদের স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৩০-৪০ জন শ্রমিককে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে কারখানার পানি সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments