Image description

বিশ্বকাপে বড় প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল তুরস্ক। কিন্তু টানা দুই পরাজয়ে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। অস্ট্রেলিয়ার পর এবার প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে তুর্কিদের। তবে হারের চেয়েও বেশি হতাশ করেছে গোল করতে না পারার ব্যর্থতা।

শনিবার (২০ জুন) সান ফ্রান্সিসকোর বে অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল তুরস্ক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি তুরস্ক।

পুরো ম্যাচে রেকর্ড ৩২টি আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি ভিনচেঞ্জো মন্টেলার শিষ্যরা। উল্টো নিজেদের একটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে।

ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে তুরস্কের কোচ ভিনচেঞ্জো মন্টেলা বলেন, “আমরা সুযোগ তৈরি করছি, কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে বল জালে জড়াচ্ছে না। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ তাদের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে গোল করে যাচ্ছে।”

‘ডি’ গ্রুপে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে টানা দুই হারে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তুরস্কের। ফলে আগামী ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে।

এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশা প্রকাশ করে মন্টেলা বলেন, “মাত্র দুই ম্যাচ পরই বিশ্বকাপকে বিদায় জানাতে হচ্ছে, এটা সত্যিই স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো।”

এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েছিল তুরস্ক। ৩০টির বেশি শট নিয়েও সেদিন ২-০ গোলে হারতে হয়েছিল তাদের। ফলে দুই ম্যাচে তিন গোল হজম করলেও একটিও গোল করতে না পারার ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে দলটির।

তবে ফলাফল নিয়ে হতাশ হলেও নিজের খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন মন্টেলা। তিনি বলেন, “আমাদের ফিনিশিং আরও ভালো হতে পারত। কিন্তু খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়ার কোনো মানসিকতা আমার নেই। আমি ছেলেদের আগের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। তারা মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে খেলেছে। ফুটবল সবসময় যুক্তি মেনে চলে না। আর এ কারণেই এটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর খেলা।”