Image description

অতিবৃষ্টি আর বানের পানিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল যখন প্লাবিত, ঠিক সেই মুহূর্তে আবহাওয়ার আগাম ও নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়ার প্রধান প্রযুক্তি ‘ডপলার রাডার’ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের সংকট। বর্তমানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পাঁচটি রাডারের সবকটিই অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি বা টর্নেডোর মতো দুর্যোগের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এসব আধুনিক রাডার কোথাও সফটওয়্যার সমস্যা, কোথাও যন্ত্রাংশের মেয়াদ শেষ হওয়া, আবার কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে গত ৪ জুলাই গাজীপুরের রাডারটি ঝড়ে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে বিকল হয়ে পড়ে। আবহাওয়া অধিদফতরের দাবি—রাডার পূর্বাভাসের প্রধান উপকরণ নয়, বরং একটি সহায়ক যন্ত্র মাত্র। তবে এই দাবি মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, স্যাটেলাইট মেঘের অবস্থান দেখালেও ডপলার রাডারের মতো নির্ভুলভাবে বলতে পারে না কোন এলাকায় কত মিনিট পর এবং কত তীব্রতায় বজ্রঝড় বা টর্নেডো আঘাত হানতে পারে। বিশেষ করে কালবৈশাখী বা বজ্রঝড়ের তাৎক্ষণিক তথ্যের জন্য রাডারের কোনো বিকল্প নেই।

রাডার অচল থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন নদীপথের যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা জানান, তারা আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যের ভিত্তিতেই লঞ্চ চলাচলের সতর্কবার্তা দেন। তথ্যে ভুল থাকলে বা সময়মতো তথ্য না পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নুরুল করিম বলেন, "তিনটি রাডারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেগুলো নতুন করে চালুর প্রক্রিয়া চলছে। রংপুরের রাডারটি দ্রুতই সচল হবে এবং গাজীপুরের রাডার মেরামতের কাজ চলছে, যা আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে তথ্য দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।"

আকাশের মেঘ কাটলেও অচল রাডার ব্যবস্থা কবে নাগাদ পুরোপুরি সচল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আবহাওয়ার নির্ভুল তথ্যের অভাব সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জানমালের বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর