Image description

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে প্রবাহিত ঐতিহাসিক একটি খাল প্রভাবশালী মহলের দখল ও ভরাটের কারণে বিলুপ্তির পথে। ব্রিটিশ আমলে খনন করা এই খালটি একসময় কৃষি, মৎস্য ও নৌ-যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম থাকলেও এখন তা হাজারো কৃষকের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচসংকট এবং বর্ষায় স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন।

বহেরাতলা ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে কলাতলা-সরকারের চর-শুম্ভক হয়ে বাঁশকান্দি ইউনিয়নের বিলপদ্মা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটির অস্তিত্ব বিআরএস রেকর্ডেও স্পষ্ট। একসময় এই খালের পলিমাটিতে জমি উর্বর হতো এবং নৌপথে স্বল্প ব্যয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন করা যেত। তবে বর্তমানে কলাতলা এলাকায় খালের উৎস মুখ ভরাট করে মাটির রাস্তা এবং ঝাউকান্দি এলাকায় অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের চর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা গোলাম ফারুক খালাসি জানান, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় এটি পুনঃখনন করা হয়েছিল। তখন এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ছিল। তবে ১৯৯৮ সালের বন্যার পর বালু জমা হওয়া এবং পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহলের দখলের কারণে খালটি তার যৌবন হারায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান ও তারা মিয়া খালাসি জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে এখানে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে একদিকে যেমন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে মশার উপদ্রব ও পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা হোক।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা বলেন, "খাল দখলের অভিযোগ তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি দখলের প্রমাণ মিললে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা এবং সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা স্থাপন করা হবে।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান জানান, "খাল পুনঃখনন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত। আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে খালটি পুনরুদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই ঐতিহাসিক খালটি পুনরায় সচল হলে শিবচরের কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর