Image description

যশোরের কেশবপুর উপজেলার দীর্ঘদিনের অভিশাপ জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহ অঞ্চলের নদী পুনঃখনন কাজ শুরু হলেও অবৈধ জালের প্রতিবন্ধকতায় তার সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বুড়ি ভদ্রা নদীর বিভিন্ন স্থানে অসাধু ব্যক্তিদের পেতে রাখা প্লাস্টিকের নেট জালের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে অতিবৃষ্টিতে পৌরসভাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলতাপোল ইউনিয়নের দুই পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি ভদ্রা ও হরিহর নদী কেশবপুর অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। এই নদী দুটি চুকনগর হয়ে ভদ্রা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে ‘তিন গাঙের মাথা’ থেকে মঙ্গলকোট ও গোলাঘাটা হয়ে কেশবপুরমুখী বুড়ি ভদ্রা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁশ পুঁতে পানির নিচ দিয়ে নেট জাল পেতে মাছ শিকার করছেন কিছু অসাধু মৎস্যজীবী। এসব জালে কচুরিপানা, শেওলা ও ভাসমান আবর্জনা আটকে নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে ভারী বর্ষণের পর পানি দ্রুত নামতে পারছে না।

ইতিমধ্যে কেশবপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, দোকানপাট, বসতবাড়ি এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে আমন মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই এই অসাধু চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সমস্যাটি স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাঁচটি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ কেশবপুরের বুড়ুলি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল লক্ষ্য ছিল ভবদহ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক করা। কিন্তু বুড়ি ভদ্রা নদীতে জালের প্রতিবন্ধকতা সেই উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।

আলতাপোল গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান বলেন, "জেলেরা মাছ ধরবে তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু নদীর মাঝখানে আড়াআড়ি জাল পেতে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব জাল অপসারণ করা।"

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, "সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন করছে মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে। অথচ কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে সেই সুফল মাটি হতে বসেছে।"

কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস জানান, "ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সচেতন মহলের দাবি, নদী খননের পাশাপাশি বুড়ি ভদ্রা নদীর অবৈধ জাল, কচুরিপানা ও সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ করা না হলে কেশবপুরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।

মানবকণ্ঠ/ডিআর